ভোলায় আ’লীগের দুই গ্রুপের ইফতার মাহফিল নিয়ে আভ্যন্তরীন বিভক্তি প্রকাশ্যে: বিব্রত প্রশাসন
ভোলা, ০৩ সেপ্টেম্বর (বিডিন্যাশনাল নিউজ ডটকম):- ভোলায় শুক্রবার আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পৃথক পৃথক ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর দলের আভ্যন্তরীন কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ভোলার রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন একদিকে সাবেক শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদকে বাদ দিয়ে এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন কে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা এবং তোফায়েল আহমদ মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় ভোলায় আওয়ামীলীগ দই নেতা কেন্দ্রিক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সে সময়ে এ বিভক্তি কিছুটা চাপা থাকলেও শুক্রবার আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এবং পৃথক দুটি ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে দলের আভ্যন্তরীন কোন্দোল এখন প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। পৃথক পৃথক ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সকাল থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পুলিশ বিশেষ সতর্ক অস্থায় রয়েছে। এদিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছেন।
দলীয় একাধিক সুত্র জানায়, শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এর আহ্বানে শহরের সরকারি স্কুল মাঠ সংলগ্ন শানাই কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজন বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের মজনু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহালুল মোল্লাসহ দলের একাংশ। দুপুর ১২ টার দিকে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের গ্র“প শহরে মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে শো-ডাউনে অংশ নেয়।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে শহরের বাংলাস্কুল সংলগ্ন ওবায়দুল হক বাবুল মোল্লা কলেজ মাঠে পৃথক ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এ আয়োজেন বাস্তবায়নে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু, যুবলীগ আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীনসহ দলের অপর একটি গ্র“প।
আওয়ামী লীগের দুই গ্র“পের পৃথক ইফতার পার্টি সম্পর্কে পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ জানান, একই দলের পৃথক ইফতার পার্টিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার পরও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও রমাজন ও পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: মেসবাহুল ইসলাম কোন গ্র“পের ইফতার পার্টিতে অংশ নেবেন জানতে চাইলে তিনি কিছুটা অসুস্থ বোধ করছেন উল্লেখ করে জানান, এটা আওয়ামীলীগের দলীয় ইফতার পার্টি। এখানে আমাদের অংশ গ্রহণ বিশেষ কিছু নয়।
পৃথক পৃথক অবস্থানে থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু জানান, পৃথক ইফতার পার্টি দলীয় দ্বন্দ্বের কিছু নয়। কারণ ইফতার পার্টি দুটি আওয়ামী লীগের আয়োজনে হচ্ছে না। একটির আয়োজন করেছেন এ্যড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ব্যাক্তিগতভাবে। অপরটির আয়োজনে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।



























