এবার বাংলা ভাষায়ও নেয়া যাবে ওয়েব ঠিকানা
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক :- “শিগগিরই যোগাযোগের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী উপায় ইন্টারনেটের ৪০ বছরের ইতিহাসে বৃহত্তম পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে,” মতামত ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রক বোর্ড আইক্যানের। কেননা, প্রথমবারের মতো ল্যাটিন নয় এমন সব ভাষায়ও ওয়েবসাইট ঠিকানা বা ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা যাবে। উল্লেখ্য, এতোদিন শুধু ইংরেজি বা ল্যাটিন অক্ষর দিয়েই ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিবন্ধন করা যেত। অচিরেই আরবি, চাইনিজ, বাংলা ইত্যাদি বেশ কিছু ভাষায় ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা সম্ভব হবে যেসব ভাষার অক্ষরসমূহ ল্যাটিন নয়।
বোর্ডের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরাও এটিকে ইন্টারনেটের ইতিহাসের বিরাট এক পরিবর্তন বলে সায় দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান বলে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১.৬ বিলিয়ন মানুষের অর্ধেকেরও বেশি ল্যাটিন ভাষায় কথা বলেন না, অথচ ইন্টারনেটে ল্যাটিন ভাষার ডোমেইন ব্যবহার করে আসছেন। ভাষাগত এই সমস্যা ঘোচাতে প্রথমবারের মতো আইক্যান কর্তৃক অনুমোদিত হলো ল্যাটিন নয় এমন সব ভাষার ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেমস বা আইডিএন যা আগামী বছর থেকে ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইডিএন এর প্রথম পরিকল্পনা করা হয় ২০০৮ সালের জুন মাসে। তবে, এ সংক্রান্ত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় ২ বছরব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি সূত্রে।
ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইক্যান) এর প্রেসিডেন্ট রড বেকস্টম বিবিসিকে বলেন, ডোমেইন নেমে এরূপ পরিবর্তন মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অর্ধেকের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের ব্যাপক সমৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজন।
আইক্যান জানিয়েছে, আগামী ১৬ই নভেম্বর আইডিএনের প্রথম অ্যাপ্লিকেশনটি অনুমোদিত হবে এবং ২০১০ সালের মাঝামাঝি আইডিএন পদ্ধতির ডোমেইন ঠিকানা ইন্টারনেটে দেখা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, নন-ল্যাটিন ভাষার সবচাইতে বেশি সংখ্যক ওয়েব ঠিকানা নিবন্ধন করা হবে চাইনিজ, আরবি এবং রাশিয়ান ভাষায়।
আইক্যান ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সংগঠিত হয় যা ইন্টারনেটের উন্নয়ন ও এ জাতীয় সকল বিষয়ে তদারকি করে থাকে। আইডিএন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায় এক বছরের আলোচনা-সমালোচনার পর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র আইক্যানের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে। সম্প্রতি নতুন একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় যার ফলস্বরূপ আইক্যান প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র হয়।
এতদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় সবাই ছিল ইংরেজি ভাষাভাষী, আর তারা ইংরেজি লিখেও অভ্যস্ত ছিল, যার কারণে ল্যাটিন ভাষায় ওয়েবসাইটের নাম নেয়ার সীমাবদ্ধতা কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতি ভিন্ন। ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে পৃথিবীর সব প্রান্তে। আর এর বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীরই প্রাথমিক ভাষা ইংরেজি নয়। তাই এ ধরনের একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
কোনোরূপ পূর্ব সংকেত ছাড়া হঠাৎ করেই ইন্টারনেটের চার দশকের বৃহত্তম এই পরিবর্তনের ঘোষণা নাড়া দিয়ে দিয়েছে পুরো ইন্টারনেট জগতকে।
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক -27.08.2010



























