দীর্ঘ কুড়ি মাসেও সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি চালু হয়নি

   

সাতক্ষীরা, ০৩ সেপ্টেম্বর (বিডিন্যাশনাল নিউজ ডটকম):- ভারতীয় সুতার অনুপ্রবেশ ও ব্যবসায়িক মন্দার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র লাভজনক ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি দীর্ঘ ২০ মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। মিলটি চালু করার জন্য এখনো পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এর সাথে জড়িত শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বঙ্গের সুতা, কাপড়ের চাহিদা মেটানো এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থল হতে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের তালতলা নামক স্থানে ১৯৮০ সালের ১ জুন সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর ৩ বছর পর ১৯৮৩ সালের ৬ অক্টোবর মিলটির বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। এসময় মিলের দু’টি ইউনিট (মূল ইউনিট ও নীল কমল ইউনিট) দিয়ে টেকসই ও উন্নত মানের সুতা তৈরী করা হতো। এসময় মিলটিতে প্রায় দু’হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
সূত্রটি আরো জানায়, সারাদেশে বিটিএমসি’র নিয়ন্ত্রনাধীন মিলগুলোর লোকসান ঠেকাতে ১৯৯৬ সালে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের এক বছর পর ১৯৯৭ সাল থেকে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে চলতে থাকে একমাত্র লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি। এই পদ্ধতিতে মিলটি চলতে থাকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। মূলত সেই সময় থেকেই মিলটি লোকসানের মুখে পড়তে থাকে।
সূত্রটি জানায়, ভারতীয় সুতা আমদানির পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে সুতা আসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব মন্দার কারণে সারাদেশের মতো সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটিও বন্ধ হয়ে যাওযার উপক্রম হয়। মিলের লোকসান ঠেকাতে বিটিএমসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৭ সালে মিলের কিছু কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ওই বছর ৩১ জুলাই সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল থেকে ৮০১ জন কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রকিমকে স্বেচ্ছা অবসের পাঠানো হয়। এরপর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে চলার সময় মিলটি ফের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মিলের সাথে চুক্তিবদ্ধরা তাদের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর কারণে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর সাথে জড়িত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বর্তমানে মিলটি দেখভাল করার জন্য ৬ জন কর্মকর্তা, ১১ জন স্থায়ী কর্মচারি, অস্থায়ী কর্মচারি ২৮ জন, স্থায়ী শ্রমিক ৩ জন রয়েছে। তাদের বর্তমানে বেতন ভাতা দেয়া হচ্ছে মিলের সঞ্চিত টাকা থেকে। তবে চলতি বছরের শেষ সময় থেকে তাও আর দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে। ফলে তাদের ভাগ্যও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই মিলটি যাতে চালু থাকে সে জন্য স্থানীয় বিত্তবানদের দ্বারস্থ হলেও কেউই সাড়া দেয়নি। ফলে মিলটি একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বন্ধ মিলটি ফের চালু করা হোক-এই দাবি সাতীরাবাসির। এজন্য তারা সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের মিল ইনচার্জ আজিজুল হক মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মিলটি ফের চালু হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। তবে সরকার সারাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলো পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছে। তবে তা’ আগামি ১/২ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভবনা কম।

Digg This
Reddit This
Stumble Now!
Buzz This
Vote on DZone
Share on Facebook
Bookmark this on Delicious
Kick It on DotNetKicks.com
Shout it
Share on LinkedIn
Bookmark this on Technorati
Post on Twitter
Google Buzz (aka. Google Reader)

Added on - September 3, 2010 | Filed under National
পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য:
arduino lcdFlush DNSLinksys Router Setup
MP4
MP4
MP4
MP4
192.168.1.1
192.168.1.1
flush dns
MP4
Linksys Router Setup
192.168.1.1
192.168.1.1
reverse phone lookup
phone number lookup