বিশ্ব ঐতিহ্য চীনের মহাপ্রাচীর
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক : প্রতিদিন টিকেট বিক্রি হয় ১৫ কোটি টাকারবিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে স্থান পাওয়া চীনের মহাপ্রাচীর পরিদর্শনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকার টিকেট বিক্রি হয়। মঙ্গোলিয়ান শত্রুদের হাত থেকে চীনকে রার জন্য পাঁচজন শাসকের আমলে ধাপে ধাপে স্থাপন করা হয় এ মহাপ্রাচীর। ৬ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রাচীর নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় হাজার বছর। এ প্রাচীর নির্মাণে অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা করেছিলেন চীনের কমিউনিস্টের প্রবক্তা মাও সেতুং। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা হয়। বেইজিং শহর থেকে প্রায় ৫১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ মহাপ্রাচীর। পাহাড়ের পাদদেশ বেয়ে আঁকাবাঁকা নদীর মতো এ প্রাচীর ঘিরে রেখেছে চীনকে। সমতল ভূমি থেকে প্রাচীরের উচ্চতা হবে দেড় থেকে আড়াইশ’ কিলোমিটার। প্রাচীরের প্রতি আধাকিলোমিটার অন্তর রয়েছে পাহারা চাহনি। চীনের এ প্রাচীর দেখতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ আসে। তবে বন্ধের দিন মানুষের ঢল নামে প্রাচীরে। চীনে বন্ধের দিন হলো শনি ও রবিবার। বিদেশিদের চেয়ে চীনের জনগণ প্রাচীর দেখতে আসে বেশি। কারণ এটি চীনের একটি জাতীয় পার্ক। প্রাচীরের টিকেট বিক্রির টাকায় চীন সরকারের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়।
প্রাচীর সম্পর্কে কথা হয় বেইজিংয়ের সরকারি পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তা মি. ডিক টু’র সঙ্গে। তিনি জানান, একটা সময় ছিল যখন মঙ্গোলিয়ানরা বারবার চীনে আক্রমণ চালাতো আর লুটপাট করে নিতো সম্পদ। মঙ্গোলিয়ানদের হাত থেকে দেশের মানুষকে রার জন্য এটি তৈরি করা হয়। এ প্রাচীর এখন আমাদের জাতীয় গর্ভের প্রতীক এবং বিশ্ব সভ্যতার একটি অমূল্য সম্পদ, যা নিয়ে চীনারা সব সময় গর্ববোধ করে। এ প্রাচীর চীনের সীমান্তবর্তী পাঁচটি প্রদেশকে এক করেছে। বেইজিং শহরের পাশ ঘেঁষে রয়েছে একটি গেট। এ গেট দিয়েই সবচেয়ে বেশি লোক প্রাচীর দেখতে যায়। টিকেটের মূল্য ধরা হয়েছে বাংলাদেশি টাকায় ৫০০ টাকা। প্রাচীরকে ঘিরে কিছুটা দূরে দূরে রয়েছে মনোরম রেস্টুরেন্ট ও শপিংমল। প্রাচীর ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য রয়েছে গাইড। গাইডদের মধ্যে মহিলার সংখ্যাই বেশি।
এ প্রাচীর ছাড়াও বেইজিংয়ে রয়েছে রাজার বাড়ি, চীনের জাতীয় জাদুঘর ও মাও সেতুংয়ের মরদেহ সংরণস্থল স্টেডিয়াম। রাতে এসব স্থানে বিশাল আলোকসজ্জা করা হয়। এতে যে কারো মনে হতে পারে উৎসবের নগরী বেইজিং। একটি ণের জন্যও বিদ্যুৎ যায় না এ শহরে। অলিম্পিকের জন্য সাজানো শহর সে রকমই রয়েছে। চীনের জাতীয় দিবস ১ অক্টোবরে অলিম্পিক স্টেডিয়ামটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। চীনের বেইজিংয়ে রাস্তায় অফিস সময়ে জ্যাম হলে রাস্তায় কখনো গাড়ির হর্ন শোনা যায় না। রাস্তায় একটি গাছের পাতাও পড়ে থাকতে দেখা যায়নি এতোই পরিচ্ছন্ন একটি শহর বেইজিং।
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক ( ২০ আগস্ট ২০১০)



























