দেড় হাজার বছরের প্রবেশদ্বার বগুড়ার মহাস্থানগড়ে
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডটকম – বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে এবার খননকালে মিলেছে দেড় হাজার বছর আগের একটি প্রবেশদ্বার। সেই সঙ্গে মিলেছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাজবাড়ির একটি ভবন। প্রাচীন রাজধানী পুণ্ড্রনগরের নিদর্শনের সন্ধানে এর আগে খননকালে মহাস্থানগড় মাজারের দক্ষিণ ধারে একটি মন্দিরের স্ট্রাকচার ও রাস্তা পাওয়া গিয়েছিল। এবার পাওয়া গেছে প্রায় ৩ মিটার দীর্ঘ একটি প্রবেশদ্বার ও রাজবাড়ির ভবনে ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিক দল যৌথভাবে মহাস্থানগড়ের খনন কাজ চালাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। সর্বশেষ ১৮তম খনন কাজ শুরু করে গত ২৪ জানুয়ারি। চলতি বছরে খনন কাজে রাজবাড়ির মেঝের অবকাঠামো উন্মুক্ত করতে গিয়ে দেড় হাজার বছর আগের একটি প্রবেশদ্বারের সন্ধান পাওয়া যায়। মহাস্থানগড়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম দিকে এই খনন কাজ চলছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ও টিম লিডার ফ্রান্সের ড. জিন ফ্রাস্ক কইজ ধারণা করছেন, এই গেটটি দিয়ে রাজা প্রবেশ করেননি। মূলত সাধারণ মানুষ অথবা শ্রমিকদের জন্য এটি ব্যবহৃত হতো। গেটটি ২ দশমিক ৯৫ মিটার। গেটের মেঝে ইট ও খনিজ বালি দিয়ে তৈরি। গেট আটকানো পুরাতন লোহা ও ব্রোঞ্জ পাওয়া গেছে। গেটটি আবিষ্কারের পর থেকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন এখানে একটি নদীবন্দর ছিল। বড় বড় নৌকা ভিড়ত। মাল খালাসের জন্য ছিল শত শত শ্রমিক। এই বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল হাজার হাজার পুরনো পুণ্ড্রবর্ধন নগর সভ্যতা। এই পুণ্ড্রবর্ধনকেই এক সময় বলা হতো বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ে রয়েছে হাজার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শন। সম্প্রতি খনন কাজ অব্যাহত রেখে যেসব পুরাকৃতি আবিষ্কৃত হয়েছে তা থেকে ইতিহাসবিদরা এমনটিই ধারণা করছেন। ১৯৯২ সাল থেকে খনন কাজ করে মহাস্থানগড়ে ২২টি বড় ভবনের মেঝে আবিষ্কার করা হয়। কয়েক বছর আগে এখান থেকে একটি মাটির তৈরি আগুন জ্বালানোর চুলা পাওয়া যায়, যা ৪শ’ বছর আগের পুরনো। এখান থেকে ধারণা পাওয়া যায় মহাস্থানগড়ের ইতিহাস হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে।
গত বছর ওই জায়গার কাছেই পাওয়া গিয়েছিল একটি নোঙ্গর (অ্যাংকর)। এ থেকে আবার এমনটিও হতে পারে সেখানে ছিল একটি পোর্ট। সেই পোর্টেরই একটি ছোট গেট। যা হোক, এটা যে একটি নগরী ছিল তার প্রমাণ মিলছে। এই গেটটি মন্দির প্রবেশের না পোর্টের তা বলা যাবে গবেষণার পর, এমনটি মন্তব্য প্রত্নতত্ত্ববিদদের।
বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খনন কাজে বাংলাদেশের পক্ষে টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করছেন শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাচারিবাড়ির কাস্টডিয়ান নাহিদ সুলতানা। সঙ্গে আছেন মহাস্থানগড় জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মাহবুবুল আলম, আলফাজ হোসেন, একে আজাদ। ফ্রান্সের পক্ষে টিম লিডার হিসেবে আছেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. জিন ফ্রাস্ক কইজ । সঙ্গে আছেন আরনে বেবলিয়া, বারবার ফুটিকন ও ব্রুনো হেলা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ের মাটির নিচে আছে সভ্যতার কয়েকটি কালের নিদর্শন। মৌর্য, গুপ্ত, সুঙ্গ, বৌদ্ধ, শশাংক, পাল, সেন ও মুসলিম ইতিহাস। নিকট-অতীত ও ব্রিটিশ শাসনামলে ফকির মজনু শাহের আগমন ও অবস্থানের ইতিহাসও মেলে। দেড়-দুই হাজার বছর আগে এই এলাকায় করতোয়া নদীর কাছে বানারসি বিলের অস্তিত্ব ও পোর্ট (বন্দর) থাকার বিষয়টি গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। যার প্রমাণ দেয় অ্যাংকর। খনন কাজ শেষ হবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
বিডিন্যাশনাল নিউজ ডটকম (ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০১০)



























